রফতানিযোগ্য স্ক্র্যাপ মেটালের ওপর ইউরোপিয়ান কমিশনকে প্রায় ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছেন অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ীরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ব্যবসায়ীদের দাবি, শুল্ক আরোপ না হলে বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাপ বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে কাঁচামালের ঘাটতিতে পড়ছেন অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকারীরা। খবর রয়টার্স।
শিল্প সংগঠন ইউরোপিয়ান অ্যালুমিনিয়ামের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে ইইউ থেকে রেকর্ড ১২ লাখ ৬০ হাজার টন স্ক্র্যাপ মেটাল রফতানি হয়েছে, যা পাঁচ বছর আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। রফতানির বেশির ভাগই এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি পরিস্থিতিকে আরো কঠিন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেও স্ক্র্যাপ মেটালে সেটি মাত্র ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে স্ক্র্যাপের আমদানি বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে রফতানিতে। ফলে এশিয়ার ক্রেতা দেশগুলো ইইউ থেকে আরো বেশি স্ক্র্যাপ সংগ্রহ করছে।
ইউরোপিয়ান অ্যালুমিনিয়ামের মহাপরিচালক পল ভস বলেন, ‘এশীয় ক্রেতারা ভর্তুকি ও কম শ্রম এবং পরিবেশ ব্যয়ের কারণে বেশি খরচ বহন করতে সক্ষম হওয়ায় ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।’
ইইউর নির্বাহী সংস্থা ইউরোপিয়ান কমিশন এরই মধ্যে রফতানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে স্ক্র্যাপ শুধু কাঁচামাল নয়, এটি খাতটির কার্বন নিঃসরণ কমানোর অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। খনিজ বক্সাইট থেকে নতুন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের তুলনায় স্ক্র্যাপ পুনর্ব্যবহার করতে ৯৫ শতাংশ কম জ্বালানি খরচ হয়।
অন্যদিকে ইইউর বাইরের বহু দেশ এরই মধ্যে স্ক্র্যাপ মেটাল রফতানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জিএমকে সেন্টারের হিসাব বলছে, ভারত ও চীনসহ ৪৮টি দেশ লৌহজাত স্ক্র্যাপ রফতানিতে নানা বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে।